অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এবার তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমনটাই জানিয়েছে প্রথম আলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিতর্কের সূত্রপাত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে। ইশরাক হোসেনের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট মহলেও অস্বস্তি তৈরি হয়।
তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইশরাক দাবি করেছেন, আত্মরক্ষার জন্যই তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এর আগে মাদক কারবারিদের গুলি চালানোর আশঙ্কার কথাও তিনি জানতে পেরেছিলেন বলে দাবি করেন।
ইশরাক আরও বলেন, তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। অভিযানে কয়েকটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়ারী বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে অভিযানের বিষয়ে জানাননি। ইশরাকও এর আগে সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন।
এদিকে, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালায় আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহনের সুযোগ থাকলেও অন্যের মনে ভয় সৃষ্টি করতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।
এর আগে বিতর্কিত একটি হামলার ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিও পদত্যাগ করেছিলেন। সেই ঘটনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এবার ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর সামনে এল।
তবে ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না আসা পর্যন্ত বিষয়টিকে সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতেই প্রকাশিত খবর হিসেবে দেখা জরুরি।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।






