ব্রিটেনের গ্লস্টারশায়ারে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে ঘটে যাওয়া সন্দেহজনক ঘটনার তদন্তে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। মঙ্গলবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকা থেকে ২২ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।
সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, টেররিজম অ্যাক্ট ২০০৬-এর ধারা ৫-এর অধীনে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই এলাকায় একটি সম্পত্তিতে তল্লাশিও চালানো হয়েছে। এ নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার তদন্তে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন পর্যন্ত কাউকেই কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়নি।
তদন্ত এখনো চলছে
সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জ্যেষ্ঠ জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো চলমান। ঘটনাটির পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানতে তদন্তকারীরা একাধিক দিক খতিয়ে দেখছেন।
তিনি বলেন, এটি একটি জটিল তদন্ত এবং বিশেষজ্ঞ দলগুলো ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সম্ভাব্য দিক অনুসরণ করছে। তদন্তের উদ্দেশ্য হলো, গ্লস্টারশায়ারে ওই ঘটনার পেছনে কী ছিল তা শনাক্ত করা।
২৭ সেপ্টেম্বর কী ঘটেছিল?
২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কয়েকটি যানবাহনের খবর পায় পুলিশ। এরপর ঘাঁটির আশপাশে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়।
ওই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের বয়স ছিল ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে তাদের আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহেও তদন্ত করা হয়।
পুলিশের তদন্তে তিনটি যানবাহনের সঙ্গে পেট্রলের উপস্থিতির বিষয়টি উঠে আসে। তবে কোনো বিস্ফোরক যন্ত্র পাওয়া যায়নি। পরে পাঁচজনকেই পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিকও গ্রেপ্তার
এরপর ১ অক্টোবর ওয়েস্টমিনস্টার এলাকা থেকে ২৫ বছর বয়সী এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে আটক করা হয়েছিল।
পরে তাকেও পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। নতুন করে ২২ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তারের আগে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনই পুলিশি জামিনে ছিলেন।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গ্লস্টারশায়ারের হুইলফোর্ড গ্রামের কাছে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানও এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছে। তবে গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র ফেয়ারফোর্ড থেকে তাদের বোমারু বিমান সরিয়ে নেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে জানান, ঘাঁটিকে ঘিরে কিছু হুমকি ছিল। তবে তিনি হুমকির প্রকৃতি বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও জানিয়েছিলেন, অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবেই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন
ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাকে ঘিরে ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়েও আলোচনা চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য ড্রোন হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
তবে এসব প্রতিবেদনের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ব্রিটিশ পুলিশও এখন পর্যন্ত ঘটনাটির পেছনে ইরানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেনি।
ফলে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের যোগাযোগ ছিল কি না, কিংবা ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তাধীন।
সামনে কী?
নতুন গ্রেপ্তারের পর ফেয়ারফোর্ডের ঘটনা নিয়ে তদন্ত আরও বিস্তৃত হয়েছে। পুলিশ বলছে, তারা একাধিক দিক অনুসরণ করছে এবং ঘটনাটির পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা শনাক্ত করতে কাজ করছে।
এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মোট সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রথম ছয়জন পুলিশি জামিনে রয়েছেন। নতুন গ্রেপ্তার ২২ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিককে ঘিরে তদন্তও চলছে।
তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন কেন বিমানঘাঁটির কাছে গিয়েছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: বিবিসি





