যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টি আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে। দলীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে অর্থনীতি, কল্যাণভাতা এবং পেনশন নীতিকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরছেন দলটির নেতা কেমি ব্যাডেনক।
বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কনজারভেটিভ পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে ব্যাডেনকের মূল বার্তা—“Stronger Economy, Stronger Country”। সম্মেলনে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন, যেখানে অর্থনীতি ও সরকারের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের কল্যাণভাতা নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।
গত বছরের সম্মেলনের তুলনায় এবার ব্যাডেনকের রাজনৈতিক অবস্থান অনেক বেশি দৃঢ় বলে দলটির ভেতরে ধারণা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনজারভেটিভ নেতারা দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংকট ও ২০২৪ সালের নির্বাচনী পরাজয়ের পর এখন কিছুটা আশাবাদী।
তবে দলটির সামনে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে—Reform UK-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা।
welfare policy-তে মুখোমুখি Conservatives ও Labour
দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের কল্যাণভাতা এখন কনজারভেটিভদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু। Labour সম্মেলনের সময় Conservatives দলটির সম্মেলনকে ব্যঙ্গ করে ‘Welfare Party Conference’ বলে মন্তব্য করেছিল।
অন্যদিকে, বার্নহাম দীর্ঘমেয়াদে welfare bill কমাতে কর্মহীন মানুষদের জন্য শুরুতেই বেশি সহায়তা ও বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন।
কনজারভেটিভ কৌশলবিদদের মতে, এর মাধ্যমে দুই দলের মধ্যে দীর্ঘদিন পর তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট বাম-ডান রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে।
Triple Lock-এ অবস্থান বদলাচ্ছে না Conservatives
State Pension-এর Triple Lock নিয়েও কনজারভেটিভরা তাদের বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।
বর্তমান ব্যবস্থায় প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় পেনশন বাড়ে তিনটি সূচকের মধ্যে যেটি বেশি—মূল্যস্ফীতি, গড় মজুরি বৃদ্ধি অথবা ২.৫ শতাংশ—তার ভিত্তিতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্নহ্যাম ২০৩০ সাল থেকে বর্তমান Triple Lock পরিবর্তনের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাবে পেনশন অন্তত মূল্যস্ফীতি বা ২.৫ শতাংশ হারে বাড়বে, তবে গড় মজুরির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় সম্পর্ক থাকবে না।
কনজারভেটিভরা অবশ্য বর্তমান Triple Lock ব্যবস্থা সমর্থন করার অবস্থানেই রয়েছে।
Reform UK নিয়ে কনজারভেটিভদের নতুন কৌশল
Reform UK-কে ঘিরেও Conservatives-এর কৌশল বদলাচ্ছে। দলটির কিছু নেতা মনে করছেন, Reform নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে কিছু ভোটার আবার কনজারভেটিভদের দিকে ফিরতে পারেন।
তবে এ বিষয়ে দলের ভেতরে পুরোপুরি একমত নন সবাই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে Reform UK বিভিন্ন নির্বাচনে Conservatives-এর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে—যা কনজারভেটিভদের জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু
ব্যাডেনক তাঁর দলকে এমনভাবে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন, যেন এই সম্মেলনই সাধারণ নির্বাচনের আগে শেষ সম্মেলন হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই কনজারভেটিভ নেতৃত্ব সাপ্তাহিক নির্বাচন-প্রস্তুতি বৈঠক শুরু করেছে।
দলের শ্যাডো ক্যাবিনেটের সদস্য নিল ও’ব্রায়েন ইতোমধ্যে দলের নীতি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে মিলে নতুন ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এবার প্রচলিত দীর্ঘ ইশতেহারের বদলে তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতির তালিকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নতুন প্রার্থীদেরও সামনে আনা হচ্ছে। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত সাবেক এমপিদের আবার প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে দলের ভেতরে বিতর্ক রয়েছে। সাবেক মন্ত্রিসভা সদস্য গ্রান্ট শ্যাপস ও পেনি মর্ডান্টকে ঘিরেও এই বিতর্ক রয়েছে।
কনজারভেটিভ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, দলকে পরিবর্তনের বার্তা দিতে হবে। তবে সেই পরিবর্তন বাস্তবে ভোটারদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সূত্র: বিবিসি





