ফেনীর ফুলগাজীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর অভিযোগ, যারা অতীতে স্বৈরাচারের সঙ্গে ছিল, তাদের একটি অংশ আবারও একই অবস্থানে ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় যারা বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনে পাশে ছিল না, তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সর্বশেষ নির্বাচনেও ওই পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল।
বিএনপির গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলটির নেতাকর্মীদের জেল-জুলুম, মামলা ও হত্যার মতো নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। একই সময়ে রাজপথের আন্দোলনে কারা ছিলেন, সেটিও জনগণ দেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা ‘এক দফা’ কর্মসূচির কথা বলছে, তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি জনগণের জন্য কী—সেটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এর বিপরীতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবার, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যাদের নির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই, তাদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
সমাবেশে ধর্মীয় প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়ার কথিত প্রচারের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের দাবি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কতটা গ্রহণযোগ্য, সে প্রশ্নও তিনি সমাবেশে তোলেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, খাল খনন এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।
এর আগে অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেনীতে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কৃষক কার্ড এবং ৫১০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি ছিল।
দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।





