যুক্তরাজ্যের RAF Fairford বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে একজন ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহ রয়েছে।
এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী আরেক ব্রিটিশ নাগরিককেও সতর্ক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় দুটি স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।
এর আগে রোববার RAF Fairford-এর কাছাকাছি পাঁচজন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং সবাই লন্ডনের বাসিন্দা ব্রিটিশ নাগরিক। তারা বর্তমানে কঠোর শর্তে পুলিশি জামিনে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় তিনটি সন্দেহজনক গাড়িকে ঘিরে। বিমানঘাঁটির পূর্বদিকে Whelford এলাকায় গাড়িগুলো দেখতে পাওয়ার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত আইনে অপরাধের সন্দেহ করা হয়েছিল। পরে তদন্ত কাউন্টার টেররিজম পুলিশের হাতে যাওয়ার পর অভিযোগের ধরন বদলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহ যুক্ত হয়।
তল্লাশির সময় গাড়িগুলো থেকে কিছু পরিমাণ পেট্রোল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সিনিয়র ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, তদন্তে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া দ্বৈত নাগরিকের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট বিদেশি রাষ্ট্রের যোগসূত্রের প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ইরান সরকার RAF Fairford ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
RAF Fairford দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার কারণে ঘাঁটিটি বিশেষ নিরাপত্তা নজরদারির মধ্যেও রয়েছে।
এখন নতুন গ্রেপ্তারসহ তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে সন্দেহভাজনদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ঘটনার পেছনে কোনো বিদেশি পক্ষের সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।





