ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের স্কুলগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে স্কুলে বা স্কুলের আশপাশে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিরুদ্ধে ৮,৫০০টির বেশি যৌন অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে।
গার্ডিয়ানের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই সময়ে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ দশমিক ৭টি ঘটনা পুলিশের কাছে রিপোর্ট হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর যৌন অপরাধের অভিযোগও রয়েছে।
তথ্যে আরও দেখা যায়, অনেক ঘটনায় অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল। তবে সব মামলায় অভিযুক্তের বয়স বা ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই সব ঘটনাকে সহপাঠীদের মধ্যকার ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
অনলাইন ঝুঁকিও বাড়ছে
শিশুদের যৌন বা নিষিদ্ধ ছবি তৈরি, সংরক্ষণ কিংবা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো আরও ৬ হাজারের বেশি ঘটনা পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন কনটেন্ট এবং AI-ভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে
এই তথ্য Freedom of Information বা তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৪৩টি পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ৩৩টি বাহিনী তথ্য দিয়েছে।
ফলে পুরো দেশের চিত্র এতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। বিভিন্ন পুলিশ বাহিনীর তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্তির পদ্ধতিতেও পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিশু সুরক্ষায় আরও পদক্ষেপের দাবি
ইংল্যান্ডের চিলড্রেনস কমিশনার ডেম র্যাচেল ডি সুজা বলেছেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যৌন নিপীড়নের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
পুলিশের পক্ষ থেকেও ঘটনাগুলোকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সচেতনতা বাড়ার কারণে আরও বেশি শিশু এখন অভিযোগ জানাতে পারছে—এটিও রিপোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, স্কুলে যৌন সহিংসতা ও হয়রানি মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব আরও শক্ত করা হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক, সম্মতি এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নতুন পরিসংখ্যানটি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের স্কুলে শিশু সুরক্ষা, অনলাইন ঝুঁকি এবং safeguarding ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
সূত্র: The Guardian




