ব্রিটেনের RAF Fairford ঘাঁটি নিরাপদ—এমনটাই জানিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট। তবে এর একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র Gloucestershire-এর এই ঘাঁটি থেকে ১২টি B-1 বোমারু বিমান দ্রুত সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ডাউনিং স্ট্রিটের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেছেন, দেশের সামরিক ঘাঁটিগুলো সুরক্ষায় পরীক্ষিত ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনীর হঠাৎ বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা নতুন কিছু হুমকির তথ্য পাওয়ার পর Fairford থেকে বোমারু বিমানগুলো সরানোর সিদ্ধান্ত নেন। পেন্টাগনও বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এটিকে সামরিক মোতায়েনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
আগের ঘটনাও তদন্তাধীন
এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে Fairford ঘাঁটির কাছাকাছি পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি; কিছু পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে পাঁচজনকেই শর্তসাপেক্ষে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
এরপর একজন দ্বৈত UK-Iranian নাগরিককেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিও পরে পুলিশি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কাউন্টার-টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে।
ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। তবে ইরানের সংশ্লিষ্টতা এখনো প্রমাণিত নয় এবং তেহরান এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সব মিলিয়ে, RAF Fairford-এ মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া এবং ব্রিটিশ সরকারের ‘ঘাঁটি নিরাপদ’ বলার মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হুমকির প্রকৃত মাত্রা বা ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: The Guardian





