সৌদি আরবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে নজিরবিহীন নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়েছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
ইনডিপেনডেন্টের ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় ৪১ বছর বয়সী যুবরাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তাঁকে জনসমক্ষে না রেখে বিশেষভাবে নির্বাচিত একটি নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে রাখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা গুরুতর, তা বোঝা যায় গত শনিবারের ঘটনায়। সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চার দফা হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর থেকে বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকায় নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিরিয়াম।
হুতিদের এক মুখপাত্রও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিমান হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরবও কঠোর জবাব দেবে।
তবে পাল্টা হামলার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে আকাশ প্রতিরক্ষা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে। এ কারণে গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চাপে রয়েছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে ২০২২ সালে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। কিন্তু গত জুলাইয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর থেকে ইরানের একটি উড়োজাহাজ তেহরানের উদ্দেশে উড্ডয়নের চেষ্টা করলে সৌদি বাহিনী গুলি চালায়—এমন অভিযোগের পর উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এদিকে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। গত রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান এবং রিয়াদ ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ শুরুর ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরাসরি হস্তক্ষেপ করার পর থেকেই হুতিদের সঙ্গে দেশটির সংঘাত চলে আসছে। এখন নতুন করে হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি নেতৃত্বের নিরাপত্তা ও সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে যুবরাজকে বিভিন্ন প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যগুলোকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন হিসেবেই দেখা জরুরি।
তথ্যসূত্র:ইনডিপেনডেন্ট






