মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে উড়োজাহাজ নেমে গেল প্রায় ১৭ হাজার ফুট। ককপিটে তখন শুরু হয়েছে ভয়াবহ সংঘর্ষ। আহত ক্যাপ্টেন, আতঙ্কিত যাত্রী আর নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসা উড়োজাহাজ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পরিণত হয়েছিল জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে।
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর উড়োজাহাজটির উচ্চতায় অস্বাভাবিক ওঠানামা শুরু হয়। পরে এটি দ্রুত নিচে নামতে থাকে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের মধ্যেই উড়োজাহাজটি বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে যায়।
এই সময় ককপিটে সহকারী পাইলটের সঙ্গে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মছারের সংঘর্ষ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। দরজা খোলার সুযোগ পেয়ে কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু দ্রুত ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
যাত্রীদের মধ্যেও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একজন যাত্রী হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে দেন, আরেকজন যাত্রী উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ধরে সেটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। পরে উড়োজাহাজে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটের দায়িত্ব নেন।
এদিকে, একজন চিকিৎসক যাত্রী আহত ক্যাপ্টেনকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।
ঘটনার একপর্যায়ে উড়োজাহাজের জরুরি সংকেত পরিবর্তিত হয় এবং সেটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের অনুমতি চায়। শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে। উড়োজাহাজে থাকা ১৭৪ জনকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।
ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে শুরুতে নানা দাবি সামনে এলেও, তদন্ত চলছিল। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জানান, সহকারী পাইলট ককপিটে ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেছিলেন। তবে ঘটনার পূর্ণ উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন স্মিত মছার এবং যাত্রীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন ভারত ও ইসরায়েলের নেতারা। গুরুতর বিপদের মধ্যেও কয়েকজন মানুষের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: Al-Jazeera





