বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের ব্যক্তিজীবনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী শিভন জিলিসের সঙ্গে সম্পর্কের সমাপ্তি। জিলিসের ভাষ্য, কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের সম্পর্ক ভালোবাসা থেকে বিচ্ছেদের দিকে গড়িয়েছে।
শিভন জিলিস প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও নির্বাহী হিসেবে মাস্কের ব্যবসায়িক জগতের সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত। টেসলা, নিউরালিংকসহ মাস্কের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০২২ সালে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যখন জানা যায়, তাঁরা গোপনে যমজ সন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের চার সন্তান রয়েছে।
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন জিলিস। সেখানে তিনি জানান, এত দ্রুত সম্পর্কের পরিবর্তন তাঁর জন্য কঠিন ও বেদনাদায়ক ছিল। তবে একই সঙ্গে তাঁদের একসঙ্গে গড়ে তোলা পরিবারের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জিলিসের প্রত্যাশা, প্রেমের সম্পর্ক শেষ হলেও মাস্কের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। একই সঙ্গে চার সন্তানের দায়িত্ব তাঁরা ভবিষ্যতেও যৌথভাবে পালন করতে পারবেন এমন আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
জিলিস তাঁর পোস্টে মাস্কের প্রতি নিজের অনুভূতির কথাও খোলামেলাভাবে লিখেছেন। তিনি বলেছেন, মাস্ককে বোঝা, তাঁকে ভালোবাসা এবং একটি স্থিতিশীল পারিবারিক পরিবেশ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এটি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি জিলিস। মাস্কও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এই সম্পর্কের সমাপ্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। জিলিসের পোস্টের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মূলত তাঁর ব্যবসা ও প্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট করেছেন।
মাস্ক ও জিলিসের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁদের পেশাগত ঘনিষ্ঠতা। জিলিস আগে ওপেনএআইয়ের বোর্ডে ছিলেন এবং পরে মাস্কের বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২৬ সালের মে মাসে ওপেনএআই নিয়ে মাস্কের আইনি লড়াইয়ের সময় আদালতে সাক্ষ্যও দেন তিনি। ওই শুনানিতে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক সামনে আসে।
এর আগে মাস্কের ব্যক্তিজীবন ও একাধিক সম্পর্ক নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। তবে জিলিসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে ঘনিষ্ঠ। চার সন্তানকে ঘিরে তাঁদের যৌথ দায়িত্বের কারণে বিচ্ছেদের পরও তাঁদের যোগাযোগ ও সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন, হঠাৎ এই বিচ্ছেদের প্রকৃত কারণ কী? এ বিষয়ে জিলিস বিস্তারিত কিছু না বলায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও নিশ্চিতভাবে কোনো কারণ বলা যাচ্ছে না। আপাতত জিলিসের বক্তব্য থেকে যা স্পষ্ট, তা হলো, সম্পর্ক শেষ হলেও সন্তানদের জন্য পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহ-অভিভাবকত্ব বজায় রাখার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে।





