সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, কিংবা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আল–জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) বিমানবন্দরে হামলার বিষয়টি জানিয়েছে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের ভাষ্য, একটি অস্ত্র বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানার পর সেখানে আগুন লাগে। তবে অস্ত্রটি ক্ষেপণাস্ত্র নাকি ড্রোন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।
এ ছাড়া রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছাকাছি আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জোট।
আগের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
এর এক দিন আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর), একই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই হামলায় আরও অনেকে আহত হন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় বেলা আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল–৩ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। সে সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন।
ওই ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। এ ঘটনায় চার বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার নিন্দা বাংলাদেশের
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এর আগেও ১৪ জন বাংলাদেশিকে হারানোর ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ ধরনের হামলা ও প্রাণহানির অবসান কামনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিপর্যয় ও আক্রমণ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এক দিনের ব্যবধানে রিয়াদ বিমানবন্দরে পরপর হামলার ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলার প্রকৃতি, হতাহতের সম্ভাব্য সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: আল–জাজিরা





