জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের চুরি যাওয়া ব্যাগের পাঁচ দিন পর তাঁর ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে নাটোরের পুলিশ। রোববার রাতে নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার একটি কাপড়ের দোকান থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়। তবে ব্যাগে থাকা ক্যামেরাটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তর কুমার শাহা নামের এক শিক্ষার্থী ও তাঁর বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যেভাবে উদ্ধার হলো ল্যাপটপ
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, ল্যাপটপ উদ্ধারে নাটোর থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত বিভিন্ন রেলস্টেশনে খোঁজ চালানো হয়। পরে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত করে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর কুমার শাহা দাবি করেছেন, গত ৮ অক্টোবর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে মাধনগর স্টেশনে তাঁর বাবা অমল কুমার শাহা আসনের নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় ল্যাপটপটি পান। পরে তিনি সেটি নওগাঁয় নিজের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান এবং ছেলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।
রোববার ল্যাপটপটি চালু হওয়ার পর এর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এরপর কাপুড়িয়াপট্টি এলাকা থেকে সেটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ল্যাপটপের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে ক্রিল ল্যান্ডার আনন্দ প্রকাশ করেছেন। ল্যাপটপের পরিচয় ও ভেতরে থাকা তথ্য যাচাই করে তিনি সেটিকে নিজের বলে নিশ্চিত করেছেন।
তবে সিসিটিভি ফুটেজে পর্যটকের ব্যাগ নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাঁকে খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। ওই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
কীভাবে হারিয়েছিল পর্যটকের ব্যাগ
ঘটনাটি ঘটে গত ৭ অক্টোবর। বগুড়ার কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সান্তাহার হয়ে ট্রেনে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান জার্মান নাগরিক ক্রিল ল্যান্ডার।
অভিযোগ অনুযায়ী, হলুদ রঙের ভেস্ট পরা এক যুবক নিজেকে রেলকর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে এটিএম থেকে টাকা তুলতে যাওয়ার সময় নিজের ব্যাগটি ওই যুবকের কাছে রেখে যান পর্যটক। ফিরে এসে ব্যাগসহ ওই ব্যক্তিকে আর খুঁজে পাননি তিনি।
ব্যাগটিতে একটি ল্যাপটপ, ক্যামেরাসহ বেশ কয়েকটি মূল্যবান জিনিস ছিল।
মালামাল উদ্ধারে এর আগে রাজশাহীতে গিয়েছিলেন পর্যটক
ব্যাগ হারানোর পর মালামাল উদ্ধারের আশায় বুধবার দিবাগত রাতে রাজশাহীতে যান ক্রিল ল্যান্ডার। ওই রাতে রাজশাহী রেলস্টেশনের একটি হোটেলে তাঁর থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।
পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তিনি রাজশাহী রেলওয়ে থানায় অবস্থান করেন। তবে সে সময় তাঁর হারানো জিনিসপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় চলে যান তিনি।
পর্যটককে ম্যাকবুক উপহার
এদিকে, ক্রিল ল্যান্ডারের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে একটি ম্যাকবুক উপহার দিয়েছেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মুক্তি মাহমুদ। গত শনিবার সন্ধ্যায় হাজারীবাগ থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে পর্যটকের হাতে কম্পিউটারটি তুলে দেন তিনি।
ল্যাপটপটি উদ্ধার হলেও ক্যামেরা এবং ব্যাগ নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির সন্ধান এখনো মেলেনি। এসব মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।




