সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ ও এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর মঙ্গলবার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটের বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মামলার ৩৮ জন আসামীর সবাইকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলার অন্যতম আসামিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, এটিএম ফয়েজ, আজমল বখত সাদেক, মকসুদ আহমদ, শাকিল মোর্শেদ, ইফতেখার আহমদ দিনার, কোহিনুর আহমদ ও ফখরুল ইসলাম ফারুক।
আসামিপক্ষের হয়ে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত ও অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে এক বৃদ্ধ যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান। পরিচয় শনাক্ত করা না যাওয়ায় প্রথমে তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। পরে এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় হত্যা ও নাশকতার অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর জ্যোৎস্না আক্তার নামের এক নারী এসে নিহত ব্যক্তিকে তাঁর স্বামী বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম কাজী নাসির এবং তিনি চিত্রনায়িকা শাবনূরের বাবা। তিনি নিজেকে কাজী নাসিরের দ্বিতীয় স্ত্রী বলেও পরিচয় দেন।
জ্যোৎস্না আক্তার পুলিশকে জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কাজী নাসির সিলেট ও মৌলভীবাজারে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তিনি ওই বাসে ছিলেন বলে দাবি করা হয়।





