ইংল্যান্ডে বছরে ১ লাখ পাউন্ডের বেশি আয় করা অভিভাবকদের চাইল্ডকেয়ার সুবিধা হারানোর নিয়ম পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনক।
বার্মিংহামে দলটির বার্ষিক সম্মেলন শুরুর আগে নতুন এই পরিকল্পনা সামনে আনা হয়েছে। কনজারভেটিভদের দাবি, বর্তমান নিয়মে সামান্য বেতন বৃদ্ধি পেলেও কোনো কোনো পরিবার সরকারি চাইল্ডকেয়ার সহায়তা হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বর্তমানে ইংল্যান্ডে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা কর্মজীবী অভিভাবকেরা শিশুদের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত চাইল্ডকেয়ার সুবিধা পেতে পারেন। তবে কোনো অভিভাবকের বার্ষিক আয় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি হলে এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন।
কনজারভেটিভদের প্রস্তাবে এই ১ লাখ পাউন্ডের সীমা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন এমন অভিভাবকেরা আয় যতই হোক, নির্দিষ্ট শর্তে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিনামূল্যের চাইল্ডকেয়ার সুবিধা পেতে পারেন।
বেডেনকের বক্তব্য, বেশি কাজ বা বেশি আয় করার কারণে কোনো পরিবারকে সরকারি সহায়তা হারানোর পরিস্থিতিতে পড়া উচিত নয়। তাঁর মতে, বর্তমান ব্যবস্থাটি মানুষকে পদোন্নতি বা বেতন বাড়ানোর সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
কনজারভেটিভরা বলছে, এই নীতির পরিবর্তনে বছরে আনুমানিক ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হতে পারে। সেই অর্থের জোগান দিতে সরকারের আওতাধীন বিভিন্ন স্বশাসিত বা arm’s-length public body-তে কর্মীসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দলটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে এসব পরিবর্তন থেকে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে।
বর্তমান ১ লাখ পাউন্ডের সীমাটি শুধু বিনামূল্যের চাইল্ডকেয়ার সুবিধার ক্ষেত্রেই নয়, Tax-Free Childcare ব্যবস্থাতেও প্রযোজ্য। এই ব্যবস্থায় অভিভাবকেরা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে জমা করা অর্থের সঙ্গে সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তা পান।
কনজারভেটিভদের মতে, আয়সীমা তুলে দিলে কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়তে পারে এবং পরিবার ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে। দলটি এটিকে একই সঙ্গে ‘প্রো-ফ্যামিলি’ ও ‘প্রো-গ্রোথ’ নীতি হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, উচ্চ আয়ের পরিবারকে অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা দেওয়ার খরচ মেটাতে সরকারি সংস্থায় কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে।
কনজারভেটিভদের জন্য এই ঘোষণা আরও বড় একটি রাজনৈতিক বার্তার অংশ। দলটি বলছে, তারা এমন একটি কর ও সরকারি ব্যয়ব্যবস্থা চায় যেখানে কাজ করলে মানুষ তার আর্থিক সুফল বেশি পাবে।
এখন দেখার বিষয়, সম্মেলনে চাইল্ডকেয়ারের এই প্রস্তাবের পাশাপাশি কনজারভেটিভরা আর কী কী অর্থনৈতিক নীতি সামনে আনে এবং ক্ষমতায় ফিরলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবে কীভাবে বাস্তবায়ন করবে।
সূত্র: বিবিসি





