যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতর থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছে। এ পর্যন্ত চারজন পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি (পিপিএস) পদত্যাগ করেছেন এবং প্রায় ৭০ জন লেবার এমপি নতুন নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর থেকেই দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অর্থনীতি, জনসেবা ও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি দলীয় নেতাদের মধ্যেও অসন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে।
পদত্যাগ করা চার পিপিএস হলেন মেলানি ওয়ার্ড, জো মরিস, টম রুটল্যান্ড ও নওশাবাহ খান। তাঁদের মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টিকে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য স্টারমার আর উপযুক্ত নন। ফলে দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে।
সোমবার লন্ডনে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে স্টারমার নিজের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই শুরু হলে তা দলের জন্য আরও অস্থিরতা তৈরি করবে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে আরও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে তাঁর এই আহ্বানে দলীয় ক্ষোভ খুব একটা কমেনি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলকে অনেকেই স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পিপিএসরা মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। সাধারণত জুনিয়র এমপিদের মধ্য থেকে তাঁদের বেছে নেওয়া হয় এবং সরকারি কার্যক্রমে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন।





