মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পুরোনো ও ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ওমানকে বোমা মেরে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন খবরে কূটনৈতিক মহলসহ খোদ ওয়াশিংটনেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই ওমান যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত।
১৮৩৩ সালে ওমান ছিল প্রথম উপসাগরীয় দেশ, যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তীতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে দেশটি। ১৯৮০ সালে ইরানি বিপ্লবের পর ওমানই প্রথম উপসাগরীয় রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ওমান নীরবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একাধিক সংলাপ ও বন্দী বিনিময় আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে। বিভিন্ন সংকটপূর্ণ সময়ে মাসকাটে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য চ্যানেল হিসেবে কাজ করেছে।
নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কারণে ওমানকে প্রায়ই “মধ্যপ্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড” বলা হয়। দেশটি সবসময় আঞ্চলিক সংঘাত থেকে দূরে থেকে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করে এসেছে। বিশেষ করে ইরান, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ওমান সতর্ক ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে।
সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে আলোচনার মধ্যে ওমানের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসে। কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালিতে টোল ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা করছে। যদিও এ বিষয়ে মাসকাট আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ওমানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থান ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বাধীন ভূমিকা নিয়েই অসন্তুষ্ট হয়েছেন ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষায় ওমানের মতো নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন একটি মিত্র দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।




