ফ্রান্সে শিক্ষা খাতে সংকট ও স্কুলের বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলন ঘিরে কয়েকটি এলাকায় সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
শুক্রবার দেশটির প্রায় ৪০০টি উচ্চবিদ্যালয় বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে Reuters। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং জরাজীর্ণ ভবনের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
প্যারিস অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনটি দ্রুত দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্কুলের সামনে শিক্ষার্থীরা প্রবেশপথ আটকে দেয়। কয়েকটি এলাকায় আবর্জনার স্তূপে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
নঁতে একটি স্কুলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। মার্সেইয়ে একটি স্কুলের কাছে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দমকলকর্মীদের গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। স্ট্রাসবুর্গ ও টুলুজসহ আরও কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে ৬৫ জন শিক্ষা বিভাগের কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪০ জন স্কুলপ্রধান। অন্যদিকে দেশটির বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রায় ২ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই কিশোর।
শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো ও অর্থসংকট নিয়ে। তাদের দাবি, অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও যথাযথভাবে হচ্ছে না।
এর মধ্যেই সরকারের ২০২৭ সালের বাজেট নিয়ে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ১ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হওয়ায় শিক্ষা খাতে বাস্তব বরাদ্দ কমে যেতে পারে বলে সমালোচনা রয়েছে।
বিক্ষোভকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সরকারের কাছে দেওয়া গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে বলা হয়েছে, কট্টর বামপন্থি দল France Unbowed বা LFI আন্দোলন সংগঠনে ভূমিকা রেখেছে। তবে LFI এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির নেতাদের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকারকে সমর্থন করছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অধিকারকর্মী ও বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, কিশোরদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কয়েকটি তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে সরকার বলছে, সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেছে তারা।
ফলে শিক্ষার্থীদের দাবি দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শিক্ষা, সরকারি ব্যয়, পুলিশের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনাকে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী দিনে বিক্ষোভ কোন দিকে যায়, সেটিই এখন ফরাসি সরকারের জন্য বড় প্রশ্ন।
সূত্র: বিবিসি





