RAF Fairford ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত, বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের RAF Fairford বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Andy Burnham।

BBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Burnham বলেন, তদন্ত এখনো চলমান এবং জটিল। তবে ব্রিটিশ সরকারের বিশ্বাস, এই ঘটনায় ইরান কোনোভাবে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার ভোরে। RAF Fairford-এর কাছাকাছি Whelford এলাকায় তিনটি সন্দেহজনক সাদা ভ্যান দেখতে পেয়ে স্থানীয় একজন কৃষক পুলিশকে খবর দেন। এরপর ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে Explosives Act-এর অধীনে অপরাধের সন্দেহ এবং পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়নি। তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ পেট্রোল বা জ্বালানি পেয়েছে, কিন্তু কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি।

পাঁচজনকেই পরে কঠোর শর্তে পুলিশ বেইলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। Counter Terrorism Policing জানিয়েছে, এর অর্থ তদন্ত শেষ হয়ে যাওয়া নয়; তারা এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছেন এবং তাদের চলাফেরা ও যোগাযোগের ওপর কঠোর শর্ত রয়েছে।

তবে এই বেইলের সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রকাশ্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, নিজের সিদ্ধান্ত হলে তিনি তাদের বেইলে মুক্তি দিতেন না।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio-ও বলেছিলেন, এই ঘটনায় কোনো ‘foreign actor’-এর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে তখন নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম বলেননি।

এদিকে ইরানের লন্ডন দূতাবাস অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, ইরানকে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা ভিত্তিহীন।

RAF Fairford বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক অভিযানে ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়েছে। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, তাদের ভূখণ্ডে হামলার জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তাই RAF Fairford-এর এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পাঁচ তরুণের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর পেছনে সত্যিই কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল কি না।

তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ব্রিটিশ সরকার বলছে, বিস্তারিত তথ্য উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করা হবে।

সূত্র: বিবিসি

সপ্তাহের সেরা আলোচিত খবর

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়লেন,বললেন ‘সত্য’ জানাবেন যথাসময়ে

পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে হঠাৎই তৈরি হয়েছে নতুন নাটক।...

অভিবাসন চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় কমিশনের পাঁচ দফা পরিকল্পনা

বড় আকারের অনিয়মিত অভিবাসনের চাপ মোকাবিলা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের...

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার

প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত...

২৭৬ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে এনসিপি

দেশের ২৭৬টি উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন সম্পন্ন করেছে জাতীয়...

ফ্রান্সের সঙ্গে ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ অভিবাসন চুক্তি বন্ধ করল যুক্তরাজ্য

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের...

Related Articles

spot_imgspot_img