চারদিকে নদী ও খাল থাকলেও পিরোজপুর পৌরসভায় দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট। গরমের শুরুতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। অনেক এলাকায় নিয়মিত পানি না পাওয়ায় ভাড়াটিয়ারাও বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার পাশাপাশি পানির সংকট রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসে সংকট আরও বেড়েছে। সাহেবপাড়া, মন্ডলপাড়া, মাছিমপুর, কুমারখালীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গত এক মাস ধরে পর্যাপ্ত পানি মিলছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও তারা প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেন না। এতে রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়া ও শিশুদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনে খাচ্ছেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তারা পানির বিল দেওয়া বন্ধ করে দেবেন।
এদিকে নদীর পানি কমে যাওয়া এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় পৌরসভার একমাত্র পানি শোধনাগারটি চরম সংকটে পড়েছে। ফলে প্রায় দুই লাখ বাসিন্দার জন্য নির্ধারিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দিনে দুইবার দুই ঘণ্টা করে পানি দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনেক বাসিন্দার ধারণা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণেই পানির সমস্যা এত বড় আকার নিয়েছে।
তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নদীতে পানির স্বল্পতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। পিরোজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বণিক জানান, ফ্রান্স সরকারের সহায়তায় একটি নতুন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে পানির সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।





